জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, ভবিষ্যতে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার তাদের গদি রক্ষা করতে পারবে না।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি সরকার সাত মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এছাড়া দেশের চলমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা নিরসনে বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলের কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সেই সময় জামায়াত সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিল। তিনি তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরে অভিযোগ করেন যে, তাকে পুনরায় একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর ভোগান্তির বোঝা চাপিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম সমাবেশে বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধান করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের বসিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি মিছিল বের করেন, যা বিজয়নগর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।