জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় নিউইয়র্কের ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ তেমন নেই।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী এবারের অধিবেশনে বৈশ্বিক মঞ্চে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

মাহ্দী আমিন এই সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশপ্রেম ও বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন বলে উল্লেখ করেন।

সফরের সংক্ষিপ্ততা তুলে ধরে মুখপাত্র আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী অতীতের প্রথা ভেঙে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সফরে এসেছেন। যাতায়াতের সময় বাদে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং এই সময়ে কিছু বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ ছোট একটি বহর রয়েছে, যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত স্টাফরা সঙ্গে রয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ যোগ দেবেন তিনি। এরপর সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান।