ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা এ ঘটনা ঘটান।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রবাসী। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে পাঁচজন ব্যক্তি পানি ও কুড়াল চাওয়ার অজুহাতে ওই বাড়িতে যান। প্রবাসীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে গেলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এরপর ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে টাকাও দাবি করা হয়।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানায়, মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন গফরগাঁওয়ের শরীফ (২৩), তাঁর ভাই আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজীব (২৩) ও এনামুল (২২)। ঘটনার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেপ্তার করে। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার বিচার ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে গত রবি ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বৈঠক করেছিলেন। এরপর আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে যান এবং বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। পরে টিনগুলো খুলে বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। ভাঙচুরের আগেই আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরের মালামালও সরিয়ে রাখা হয়।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তিনি এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য।