জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারিভাবে নতুন ভাড়ার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর শনির আখড়া, আসাদগেট, ফার্মগেট ও বাংলামোটর এলাকায় বিভিন্ন বাসে যাতায়াত করে এবং যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে শনির আখড়া বাস স্টপেজে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, ভুলতা ও মাতুয়াইল থেকে আসা অন্তত সাতটি বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাসগুলোতে ওঠার সময় চালকের সহকারীরা যাত্রীদের সতর্ক করে বলছেন, ‘আজকে কিন্তু ভাড়া বেশি।’

শনির আখড়া বাস স্টপেজে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, ভুলতা ও মাতুয়াইল থেকে ছেড়ে আসা গুলিস্তানগামী অনেক বাস তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। তবে সাইনবোর্ড থেকে সাভার রুটের লাব্বাইক পরিবহন এবং সাইনবোর্ড থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা রুটের অনাবিল পরিবহনে সোমবার রাত থেকেই প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে, ভুলতা থেকে গুলিস্তান রুটের মেঘলা পরিবহনে এখনো ভাড়া বাড়েনি। বেলা ১১টার দিকে শনির আখড়ায় আসে চাষাড়া থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা রুটে চলাচলকারী মৌমিতা পরিবহনের একটি বাস। এছাড়া শনির আখড়া ও ফার্মগেট এলাকায় বিআরটিসি বাসের যাত্রীরা আগের ভাড়াই দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ভাড়ার নতুন সরকারি তালিকা না থাকায় যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। মৌমিতা পরিবহনের এক বাসের সহকারী সাদ্দাম হোসেন জানান, সরকার হুট করে তেলের দাম বাড়িয়েছে, তাই তাঁরাও সকাল থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। এই বাসে শনির আখড়া থেকে চানখাঁরপুল ও নীলক্ষেতের ভাড়া ২০ ও ২৫ টাকার পরিবর্তে যথাক্রমে ২৫ ও ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ভাড়া ১০ টাকার স্থলে ১৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে আসাদগেট থেকে ফার্মগেট এবং ফার্মগেট থেকে শাহবাগ রুটেও ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বাসে বাড়তি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে কে এম আল আমিন নামের এক যাত্রী বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সরকার আগে থেকে জানালে ভালো হতো। তিনি বলেন, 'বাসায় ২০ টাকা ভাড়া নিয়ে বের হয়েছিলাম, এখন ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে।' ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনির হোসেন বাড়তি ভাড়াকে নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য জুলুম বলে অভিহিত করেছেন। তবে অনেকে সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি নন। ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম রানা জানান, নতুন রেট নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত ভাড়া দেবেন না।

পরিবহনকর্মীদের মধ্যেও ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এয়ারপোর্ট-বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহনের সহকারী রুবেল হোসেন জানান, তেলের দাম বাড়ায় তাঁরা বাড়তি ভাড়া চাইলেও যাত্রীরা সব সময় তা দিচ্ছেন না। ওয়েলকাম পরিবহনের সহকারী সজীব মিয়া জানান, তাঁরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন, কিন্তু একই পরিবহনের আরেক সহকারী মতিন মিয়া জানিয়েছেন, নতুন তালিকা প্রকাশের পরই তাঁরা ভাড়া বাড়াবেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ বাস লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন হওয়া সত্ত্বেও বাড়তি ভাড়ার এই চাপ যাত্রীদের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করেছে।