চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত মহামায়া লেক বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৯৯ সালে মহামায়া খালের ওপর স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে এই লেকটির সৃষ্টি হয়। মীরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই পর্যটন স্পটটি। লেকটির টলটলে নীলাভ পানি এবং চারপাশের পাহাড়ের মিতালী একে করে তুলেছে অপরূপ সুন্দর।
পর্যটকরা এখানে এসে বোটে চড়ে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। লেকের শান্ত পানিতে কায়াকিং করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করে। এছাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝরনার শীতল পানিতে শরীর ভিজিয়ে প্রশান্তি পাওয়ার সুযোগও এখানে আছে। লেকের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপ এবং পাহাড়ের মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গপথের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। যারা রাতে থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা। তবে ক্যাম্পিং করার ক্ষেত্রে অবশ্যই দুই-তিন দিন আগে কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, মহামায়ায় ক্যাম্পিংয়ের অনুমতি শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য রয়েছে, মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা নেই।
মহামায়া লেকে যাওয়ার জন্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী এলাকায় নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়িতে লেকের গেট পর্যন্ত যাওয়া যায়, আবার চাইলে দশ মিনিট হেঁটেও পৌঁছানো সম্ভব। ঢাকা থেকে ট্রেনে এলে ফেনী স্টেশনে নেমে ১০-১৫ টাকা রিকশা বা অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাইয়ের আগে ঠাকুরদীঘি বাজার নেমে যেতে হবে। বাস ভাড়া নন-এসি ৪৫০-৫০০ টাকা এবং এসি বাসের ক্ষেত্রে ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। শ্রেণি ভেদে ট্রেন ভাড়া জন প্রতি ২৫০-১০০০ টাকা।
লেকের প্রবেশপথে একটি টিকেট কাউন্টার রয়েছে। ভেতরে প্রবেশের পর ঝাউগাছ ও ফুলের সারি পেরিয়ে লেকের সামনে পৌঁছাতে হয়। পুরো বছরজুড়েই এখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে, বিশেষ করে শিক্ষা সফর বা বিভিন্ন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এটি মুখর থাকে। সীতাকুণ্ড এলাকায় সাধারণ মানের হোটেল থাকলেও মীরসরাইয়ে থাকার মতো উন্নত আবাসিক হোটেলের অভাব রয়েছে, তাই পর্যটকদের সীতাকুণ্ডের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।