প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার চার দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনেই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পূর্বনির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি বাদে বাকি ১০টি কর্মসূচিতেই প্রধানমন্ত্রী সশরীরে অংশ নিয়েছেন। যার মধ্য দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার এই ব্যস্ততা অব্যাহত ছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন জানান, সফরের প্রথম দিনটি ব্যক্তিগত পর্যায়ের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ প্রাতরাশে যোগ দেন। দিনের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজেও তারা সস্ত্রীক অংশ নেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক অধিবেশন পরিচালনার বিষয়টিকেও তিনি গৌরবের নজির হিসেবে উল্লেখ করেন।

সফরের প্রথম দিনে আঞ্চলিক সহযোগিতার তাগিদ দিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতগুলোতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সময়স্বল্পতার কারণে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল এবং মেটার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না হলেও, মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আলোচনা সম্পন্ন করেছে, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।