আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ পাঁচগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে।

নতুন এই বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বর) প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। তবে কোনো প্রার্থী একাধিক মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেও তাকে একাধিকবার জামানত দিতে হবে না।

নির্বাচনী ব্যয়সীমার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছে ইসি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই ব্যয়সীমা কার্যকর থাকবে এবং চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তপশিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে চেক ব্যবহার করতে হবে।

জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়ে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা গ্রহণ না করলে সেই অর্থও অফেরৎযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে চলে যাবে।

এর আগে ইসি এই বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত গেজেটটি প্রকাশিত হলো। এছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনীগুলোও ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কমিশন।