টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আয়োজিত ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন ও সঞ্চালনা করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তরুণদের ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং তাদের উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক শক্তি তৈরির একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে সরকার ও নীতিনির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশি পেশাজীবীরা অংশ নেন। তারা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন।
ববি হাজ্জাজ প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতের অগ্রগতিতে কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী দক্ষতার সমন্বয় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।