ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবারের কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সহিহ হাদিসে গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।' (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ৯)

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গোসল করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে।' এটি শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, বরং ইবাদতের প্রস্তুতির অংশ। তাই জুমার নামাজের আগে শরীর পরিষ্কার করে গোসল করা ও দাঁত পরিষ্কার করা উত্তম। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরাও সুন্নাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'প্রত্যেক মসজিদে তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো।' (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ৩১)। তাই পোশাকে দুর্গন্ধ না রাখা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।

সময়ের আগে মসজিদে যাওয়া জুমার দিনের আরেকটি ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করার সমপরিমাণ সওয়াব পায়। এরপর যে যায়, তার জন্য গরু, তারপর মেষ, তারপর মুরগি এবং সবশেষে ডিম সদকা করার মতো সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। মসজিদে খুতবা চলাকালীন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তা শোনা জরুরি। এ সময় কথা বলা, অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ইশারা করা কিংবা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, কারণ ইমামের খুতবার সময় কথা বলা অনর্থক কাজের শামিল।

জুমার নামাজ আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তসম্মতভাবে জুমা আদায়ে সক্ষম মুসলিম পুরুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজের পাশাপাশি জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। তাই এদিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।' এছাড়া সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা জুমার দিনের প্রসিদ্ধ আমল। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলো থাকবে।

শুক্রবারে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দেন। অনেক আলেম মনে করেন, আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়টি বিশেষভাবে দোয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এদিন আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।' (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ১০)।

সবশেষে, জুমার দিনটি আত্মশুদ্ধি ও নিজের জীবন পর্যালোচনার দিন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। গত সপ্তাহের ভুলত্রুটি নিয়ে আত্মসমালোচনা করা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, অসুস্থ ব্যক্তি ও অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্তিশালী করাও এই দিনের বিশেষ শিক্ষা। তবে যেকোনো আমলের ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে সহিহ ও গ্রহণযোগ্য হাদিসের ওপর নির্ভর করা জরুরি। মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বাড়ানো এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনকে সুন্দর করা।