যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নৈশভোজের আগে দুই নেতা এই বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ‘দারুণ বৈঠক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার লক্ষ্যে প্রায় ১১ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
হোয়াইট হাউসের এই বৈঠকের মূল আকর্ষণ ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্ম নেওয়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই তিনি মার্কিন সমাজে একজন প্রভাবশালী ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও শোবিজ জগতের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন হঠাৎ করেই তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। শুরুতে অনেকেই তাঁর এই ঘোষণা নিয়ে হাসিঠাট্টা করলেও ট্রাম্প নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সফল হন।
২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সব জরিপ ও পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের পিতা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী এবং তাঁর মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ। শৈশবে অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির হওয়ায় তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে ১৯৬৮ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক শেষে বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়ে একদম প্রাথমিক পদ থেকে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনো গড়ে তুলে পারিবারিক ব্যবসার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটান।
ব্যবসায়ী ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’-এর স্পনসর ছিলেন। এছাড়া ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামের একটি টিভি রিয়্যালিটি শো এবং রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করে তিনি তারকাখ্যাতি লাভ করেন। ব্যবসায়িক জীবনে কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার পাশাপাশি বহু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিয়ে করা ট্রাম্প পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানা, যাঁর সঙ্গে ১৯৯২ সালে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি মার্লা ম্যাপলসকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্প সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। রাশিয়া এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য অনুরাগ এবং অভিবাসী, নারী, মুসলমান ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাঁর নেতিবাচক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও উঠেছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে দলের ১৬ জন প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এবং হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে বসেন। ট্রাম্পের এই বিজয়ের পর নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে এবং ট্রাম্পকে জেতাতে ক্রেমলিন কলকাঠি নেড়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। (ছবি: 1-1-US-PRESIDENT-TRUMP-WELCOMES-CHINAS-PRESIDENT-XI-AT-JOINT-BASE-A-021448.jpg – US President Trump welcomes chinas President Xi at Joint Base Andrews)
TOPSHOTS-TOPSHOT-US-CHINA-DIPLOMACY-TRUMP-XI-011054.jpg
prothomalo-bangla/2026-09-25/d68domne/TOPSHOTS-TOPSHOT-US-CHINA-DIPLOMACY-TRUMP-XI-011054.jpg