মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপ বাড়ছে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের ওপর। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। রিয়াদ ও কায়রো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে গণ্য করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক ডাকার প্রস্তুতিও চলছে।
সংঘাতের তীব্রতা বজায় রয়েছে। হুথিরা দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার তারা সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, তারা হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এর আগে মক্কা, জেদ্দা এবং লোহিত সাগরের প্রধান তেল বন্দর ইয়ানবুসহ কয়েকটি এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করতেও যেন তারা প্রস্তুত থাকেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে হুথিদের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, হুথিরা নিজেদের কাজের জন্য নিজেরাই দায়ী। এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউ ইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে, জব্দকৃত অর্থ ছাড় করলে এবং তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করলে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে এই বৃহত্তর যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। লোহিত সাগরে হুথিদের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুথিদের এই অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৌশল বদলে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে। যেসব তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠান ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিমান নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরানের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা যেন একটি খোলা আকাশের কারাগারে বাস করছেন।
ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। হুথিরা লোহিত সাগরের মুখে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে, আর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত করে দিয়েছে—যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি হতো। ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ার হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপ