জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে অসাধারণ আখ্যায়িত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই ভাষণে সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা ও শ্রদ্ধাশীল সম্পর্কের বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, তারেক রহমান তাঁর ভাষণে অস্ত্রের পরিবর্তে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কূটনীতি, মানবতা, শিক্ষা ও চুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে রিজভী বলেন, এটি আজ কেবল ফিলিস্তিনিদের নয়, বরং গোটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের দাবি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বানও তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সংস্থায় তারেক রহমানের বক্তব্য বিশ্বশান্তির পক্ষে এক জোরালো অবস্থান উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়ে, বিদ্যুৎ থাকে না এবং কারখানা বন্ধ হয়ে মানুষ বেকার হয়। তারেক রহমানের বক্তব্য মূলত সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথাই প্রতিধ্বনিত করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি কোনো মিডনাইট নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদিনের প্রত্যাশিত জনগণের ভোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। বিএনপির সরকার মানুষের জন্য এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য কাজ করছে। দেশে কোনো দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির অবস্থান নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায় এবং একটি দাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ও বিএনপি রাস্তায় রাস্তায় কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।
সমাবেশে ওলামা দলের আহ্বায়ক আলহাজ মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা এবং সদস্যসচিব এডভোকেট মাওলানা কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।