রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জমির দখল-বেদখল নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে নিউগ্রিনি প্রোপার্টিজে অবস্থিত ওই স্টুডিওতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ০১:১৫ মিনিটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রোপার্টিজে ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনিবার রাতে একদল লোক দলবদ্ধভাবে এসে সেখানে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পরিদর্শক (তদন্ত), পরিদর্শক (অপারেশনস) সহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে এবং রাতে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ করে police জানিয়েছে, তারা হলেন— ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা মামুন, যিনি ভাসানটেক বস্তিতে থাকেন; টাঙ্গাইলের আসলাম, যিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক এবং মুন্না, যিনি ভাসানটেক বস্তিতে থাকেন। হামলাকারীদের বিস্তারিত পরিচয় ও ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
হামলার কারণ সম্পর্কে ডিএমপির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এটি একটি আবাসন ব্যবসা বা হাউজিং বিজনেস সংক্রান্ত বিষয়। রাতের বেলা দলবদ্ধভাবে এসে হামলার ধরন দেখে জমি দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সালমান মুক্তাদিরের কাছ থেকে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়েছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কোনো তথ্য এই মুহূর্তে পুলিশের কাছে নেই। তদন্ত শেষ হলেই এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা যাবে।
রাজধানীতে একের পর এক দখল ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রতিটি ঘটনার পরই তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।