জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হামলা চালিয়ে হত্যা করাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সাথে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলো ‘সবকিছু করছে’ বলে অভিযোগ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভাষণে ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করছে। শুধু তাই নয়, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে তারা কিয়েভকে সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর এই ভূমিকার কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমস্ত পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা। তবে তাদের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না, বরং যুদ্ধ উসকানিদাতাদের একটি বড় ধরনের কৌশলগত অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ল্যাভরভ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মূল সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করার এখনই উপযুক্ত সময়। রাশিয়ার মতে, ফিলিস্তিন সংকট দূর করাই এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
এছাড়া ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান ল্যাভরভ। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইস্যুতে বৈশ্বিক সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার জন্য চীনের নেওয়া উদ্যোগকে মস্কো সমর্থন করে বলেও তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেন।