ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ট্রলারে থাকা চার জেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও ডুবে যাওয়া ট্রলারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে চাঁদপুর ইউনিয়নের হাজিকান্দি এলাকার রুহুল আমিন মাঝির মালিকানাধীন একটি ট্রলার নিয়ে জেলেরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে মাছ ধরা শেষে ঘাটে ফিরে আসার সময় হঠাৎ নদীর স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা রুহুল আমিন মাঝি, মো. শাহিন, জসিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন নিজেদের জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে সোনার চর এলাকায় ভাসমান অবস্থায় অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।
ট্রলারডুবির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জেলেরা মেঘনা নদীতে তল্লাশি শুরু করলেও তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান চরম ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওই ট্রলারটির কোনো হদিস মেলেনি। ট্রলারের মালিক রুহুল আমিন মাঝি জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ায় তার প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত এটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলে নদীর গভীর স্রোতে সেটি আরও দূরে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় জেলেরা জানান, মেঘনায় স্রোত বাড়লে ছোট ও মাঝারি আকারের ট্রলারগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। তারা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা আর্থিক সহযোগিতার জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন। এই আবেদনটি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং কোনো সরকারি বরাদ্দ আসলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।