এশিয়ান গেমসকে অনেকে এখন ‘চায়না গেমস’ হিসেবে অভিহিত করছেন, কারণ গত চার দশক ধরে এশিয়ার এই বৃহত্তম ক্রীড়া আসরে দেশটির একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রয়েছে। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুই সপ্তাহব্যাপী এই গেমসের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর রোববারের হিসাব অনুযায়ী, চীন ১১৯টি স্বর্ণপদক জিতে পদক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। চীনের মোট পদক সংখ্যা ২০৫টি, যার মধ্যে ৪৮টি রৌপ্য এবং ৩৮টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। ১৯৯০ সালের বেইজিং গেমস থেকে শুরু করে টানা ১০টি আসরে ১০০ বা তার বেশি স্বর্ণ জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছে চীন।

পদক তালিকায় চীনের পরেই রয়েছে জাপান, যারা ৩৭টি স্বর্ণসহ মোট ১৫৭টি পদক পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সংগ্রহে রয়েছে ২১টি স্বর্ণসহ মোট ৮৩টি পদক। চতুর্থ স্থানে থাকা উজবেকিস্তানের স্বর্ণপদক সংখ্যা ১০টি এবং পঞ্চম স্থানে থাকা কাজাখস্তানের স্বর্ণপদক সংখ্যা ৯টি। এবারের আসরে প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন, যা প্যারিস অলিম্পিকের ১০ হাজার ৭০০ জন ক্রীড়াবিদের চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, অলিম্পিক বা বড় আসরগুলোর মতো এশিয়ান গেমসেও শক্তিধর দেশগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্ট। পদক তালিকার একেবারে নিচের দিকে থাকা চারটি দেশের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি করে ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ব্রুনেই, মঙ্গোলিয়া এবং সিরিয়া।

সাঁতারের ইভেন্টে চীন ও জাপানের তারকাদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। গেমসের প্রথম সপ্তাহের ছয় দিনে সাঁতার থেকেই চীন ৩০টি স্বর্ণ জিতেছে। এর মধ্যে ফ্রিস্টাইল সাঁতারু ঝাং ঝানশু একাই সাতটি স্বর্ণপদক জিতেছেন, যার মধ্যে ২০০, ৪০০, ৮০০ ও ১ হাজার ৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল এবং তিনটি রিলে ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ১৩ বছর বয়সী চীনা সাঁতারু ইউ জিদিও ২০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ২০০ ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে তিনটি স্বর্ণ জিতেছেন। এই দুই সাঁতারুকে আগামী বছরের বুদাপেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।