প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার টেবিলে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে একই সাথে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, ইরান কূটনীতির জন্য যেমন প্রস্তুত, ঠিক তেমনি যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা এবং মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধের কারণে জ্বালানি পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। এ বিষয়ে আরাগচি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর তারা শুনেছেন। তবে তারা এখনও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, তাদের প্রস্তাব অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ইরান এই জলপথ খুলে দিতে প্রস্তুত। আরাগচির বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ইরানের দাবি মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এই প্রস্তাবের ধারা অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে ইরান প্রণালি খুলে দেবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পুনরায় আলোচনায় বসবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে আস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং স্বাক্ষরিত চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল। গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ইরান প্রথম লঙ্ঘন করেছে—এমন দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আরাগচির ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন যদি মনেই করে তেহরান চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তবে ইরানে হামলা না চালিয়ে তারা চুক্তির বিরোধ-নিষ্পত্তি সংক্রান্ত ধারাটি কার্যকর করতে পারত।
মার্কিন হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে আরাগচি বলেন, ইরান আগের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং তাদের সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি তা যদি মহাপ্রলয়ের রূপও নেয়, তবুও যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর পাশাপাশি কূটনীতির পথ খোলা রাখা হয়েছে বলেও তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন।