প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার ধ্বংসস্তূপ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মোহসেন হায়দারি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে জানা গেছে, কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
মোহসেন হায়দারির ভাষ্যমতে, মোজতবা খামেনি এর আগেই কোনো এক হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর তেহরানের আরও দুটি হাসপাতালের সঙ্গে ওই হাসপাতালটিতেও হামলা চালানো হয়। তৃতীয় হাসপাতালটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে সেখান থেকেই ৫৬ বছর বয়সি খামেনিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে একটি গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বা তিনি কোনো বক্তব্যও রাখেননি, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, হামলায় খামেনির মুখে গুরুতর আঘাত লেগে থাকতে পারে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেছেন হায়দারি। তিনি জানান, ভোটের আগে সদস্যদের জানানো হয়েছিল যে খামেনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। মোট ৫৯টি ভোটের মধ্যে খামেনি ৫০টি ভোট পান এবং আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি ৮টি ভোট পান, একজন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। হায়দারি দাবি করেন, ভোটের প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন হয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার না হওয়া পর্যন্ত মোজতবা নিজেও জানতেন না যে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
হায়দারি মোজতবা খামেনিকে ‘আড়ালের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন, যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।