উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ১৮। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। ৫০ বছর বয়সী এই আইনজীবী দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

রাজপ্রাসাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাতিমা জাহরাকে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের চার দিন পর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি এলো। নির্বাচনে ফাতিমার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করেছে।

মরক্কোর নির্বাচনি ব্যবস্থায় কোনো একক দলের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফাতিমা জাহরাকে একটি জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ার নাজলা বাউডেনের পর আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

ফাতিমা মানসুরির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি পূরণ অন্যতম।

মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, রাজা দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। তবে ২০১১ সালের আরব বসন্তের বিক্ষোভের পর থেকে রাজা সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য।

ফাতিমা জাহরা ২০০৮ সালে পিএএমে যোগ দেন, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও শৈশবের বন্ধু ফুয়াদ আলি এল হিম্মা। ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। এর আগে তিনি সংসদ সদস্য এবং দুই মেয়াদে মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ‘মারাকেশের পাশা’ হিসেবে পরিচিত আবদের রহমান এল মানসুরির মেয়ে এবং শহরের বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১০ লাখ ভোটার পিএএমকে ভোট দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নির্বাচনি জয়।