প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। খুলনায় অন্যের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক স্টেনোটাইপিস্ট আটক হয়েছেন। আটক ওই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর নাম মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর খুলনার বিভাগীয় কমিশনার তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। অভিযুক্ত সোহাগকে বর্তমানে ফৌজদারি মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ প্রক্সিকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষে এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা বিস্তারিত রিপোর্টে তুলে ধরা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রক্সি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রণালয়ের অপর এক পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোহাগ এককভাবে নাকি অন্য কোনো চক্রের সহায়তায় এ অপকর্মে জড়িয়েছে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২০ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্টেনোটাইপিস্ট পদে চাকরিতে যোগ দেওয়া সোহাগের ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মচারীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সরকারি নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অন্তত ২৩ জন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে তথ্য রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা গোপনে তদন্ত করছে। এসব চক্র প্রায়ই শীর্ষ কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে ফোন করে জেলা প্রশাসক বা বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে তদবির করে থাকে। এছাড়া মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ গায়েব করার বিনিময়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পুলিশ যৌথভাবে সোহাগের চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। জনপ্রশাসনের নন-ক্যাডার কর্মচারীরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলছেন, মন্ত্রণালয়ের বদনাম হয় এমন দুষ্টচক্রকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। উল্লেখ্য, গত মাসেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসে ছয় জন এবং চাকরিতে যোগদান করতে এসে আরও চার জন গ্রেফতার হয়েছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা রয়েছে।