গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল ভিটিপাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু রিথি আক্তার এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। লাকচতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিথি গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। তাকে খুঁজে পেতে ৭১ বছর বয়সী নানা ইসমাইল শেখ অসুস্থ শরীর নিয়েও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি এবং বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাইরে যেতে না পারলে তিনি বাড়িতেই নাতনির ছবি হাতে নিয়ে বসে থাকেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন দুপুরে হাঁসের বাচ্চা খুঁজে না পাওয়ায় রিথির নানি নুরজাহান বেগম তার সঙ্গে কিছুটা রাগ করে কথা বলেছিলেন। এর পরপরই রিথি পাশের বাড়ির এক সমবয়সী শিশুর কাছে নিজের অভিমানের কথা প্রকাশ করে। বিকেল ৪টার দিকে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেন এবং পরে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নাতনির অপেক্ষায় থাকা ইসমাইল শেখ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এমন কোনো দিন নেই যে তিনি রিথিকে খুঁজতে বের হননি। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জনের পরামর্শে কবিরাজের কাছেও গিয়েছেন কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট কোনো জায়গার সন্ধান দিতে পারেনি। বাড়ির উঠানে রিথির ব্যবহৃত কাপড় ও স্কুলব্যাগ পড়ে আছে, যা দেখে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্ট্রোকের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ নানি নুরজাহান বেগম জানান, রিথি তার সব কাজে সাহায্য করত। এখন নাতনিকে ছাড়া তার জীবন থমকে গেছে।
রিথির মামাতো বোন আফরিন আক্তার জানান, ছোটবেলা থেকেই রিথিকে তারা নিজেদের সন্তানের মতো বড় করেছেন। পড়াশোনায় সহযোগিতা থেকে শুরু করে সব কাজেই সে তাদের সঙ্গে থাকত। বর্তমানে পরিবারের সবাই রিথির জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন। স্থানীয়দের কাছে শান্ত স্বভাবের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত রিথির নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, জিডির ভিত্তিতে পুলিশ তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোথাও রিথির সন্ধান পাওয়া গেলে শ্রীপুর থানা অথবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।