ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান তার হাতে থাকা যেকোনো উপায় ও সক্ষমতা ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বুধবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পাদিত 'মক্কা চুক্তি' অনুযায়ী দেশটির প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে ইসলামাবাদ বাধ্য।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন যেকোনো ধরনের হুমকি, তা হুতিদের কাছ থেকে আসুক বা অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে, পাকিস্তান রিয়াদের পাশে থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের শত্রুরা পাকিস্তানেরও শত্রু এবং এই অবস্থান নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, সৌদি আরবকে রক্ষা করা পাকিস্তানের জন্য একটি ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ।

প্রক্সি গোষ্ঠীর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে খাজা আসিফ বলেন, অনেক সময় প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো তাদের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিজেদের এজেন্ডা তৈরি করে। হুতিদের বিষয়ে তিনি জানান, তেহরান তাদের প্রক্সি হিসেবে স্বীকার না করলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।

২০১৫ সাল থেকে হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ২৫শে সেপ্টেম্বর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা মক্কা নগরীর নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ২৭শে সেপ্টেম্বর খাজা আসিফ পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে পাকিস্তান ও তুরস্ক কূটনৈতিক ও বাস্তবিক উভয়ভাবেই রিয়াদের পাশে থাকবে।