সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এই আকস্মিক বন্ধের ফলে স্থানীয় ১০৮টি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সমাজের অবহেলিত এসব শিশুর শিক্ষার একমাত্র মাধ্যমটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারা একঘেয়ে ও গৃহবন্দি জীবনযাপন করছে। স্কুলটি চালু থাকলে সহপাঠীদের সান্নিধ্যে তাদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটত। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় বাড়ির বাইরে তাদের আর কোনো সামাজিক অবস্থান নেই।
বিদ্যালয়টির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্কুলটি চালু থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় এখানে স্কুল চলবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি আরো জানান, স্কুল চলাকালে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই প্রায় ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানামুখী প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দিলে আমরা শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হই। বর্তমানে স্কুলের সকল কার্যক্রম বন্ধ। আমাদের শিক্ষকরাও দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় অলস ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
স্কুলটির ভবিষ্যৎ ও পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। আমরা সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। এখন স্কুলটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুমোদন প্রাপ্তির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি ডিও লেটারও দিয়েছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এসব কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে দ্রুততম সময়ে স্কুলটি পুনরায় চালু করার জন্য বিনীত আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজ।