দেশে কোনো ধরণের যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি এবং আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এই অভিযানগুলো চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এগুলোকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া ৩.৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমিতে এই আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বর্তমানের খিলগাঁও কার্যালয়ের জায়গা স্বল্পতা এবং যাতায়াত সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার কর্মরত আছেন। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে, যা দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে মন্ত্রী তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রত্যাহার নয়, বরং বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ডিসেম্বরের বিজয় মাসে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে, যার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া রাস্তা খনন বা নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরো রাস্তা একসাথে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে যানজট না হয়।