সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে ভয়াবহ এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটির ককপিটে থাকা এক পাইলট তার সহকর্মী ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছারকে ছুরিকাঘাত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করাই ছিল হামলাকারীর উদ্দেশ্য।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিথ অসীম সাহসের পরিচয় দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ককপিটের দরজা খোলার সুইচ চেপে দেন, যাতে ক্রু ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকতে পারেন। স্মিথের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। এ সময় উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১৪ হাজার ফুট বা প্রায় ৪ হাজার ২৬৭ মিটার নিচে নেমে আসে, যা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। উড়োজাহাজে থাকা যাত্রী আলমগ ইতালি জানান, উড়োজাহাজটি রোলারকোস্টারের মতো নিচে নামছিল।

ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিবৃত্ত করতে সহায়তা করেন যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন ও শোতা মুসায়েভ। পেশায় পাইপমিস্ত্রি ইয়ানিভ হায়ুন জানান, তিনি উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণের হাতল ধরে বিমানটিকে স্থির করার চেষ্টা করেন। দন্তচিকিৎসক শোতা মুসায়েভ জানান, তিনি যখন ভেতরে ঢোকেন, তখন হামলাকারী স্মিথের ওপর বসে ছুরিকাঘাত করছিলেন। শোতা ও অন্যরা মিলে হামলাকারীকে হেডফোনের তার ও জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে ফেলেন। শোতা জানান, স্মিথের হাতের ক্ষত এত গভীর ছিল যে তা প্রায় দুভাগ হয়ে গিয়েছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তিনি একপর্যায়ে জ্ঞান হারান।

উড়োজাহাজটিতে থাকা অন্য দুজন পাইলট, যারা সেই মুহূর্তে দায়িত্বে ছিলেন না, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। যাত্রী আলমগ ইতালি জানান, বিকল্প ওই দুজন পাইলটের একজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন, যিনি উড়োজাহাজের সামনের অংশ ওপরের দিকে তুলে সেটিকে স্থির করেন। বর্তমানে আহত পাইলট স্মিথ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল।

এই ঘটনায় পাইলট স্মিথকে 'নায়ক' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি তার এক্স পোস্টে স্মিথের সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এদিকে, হামলাকারী পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সৌদি আরব ইসরায়েলের সামরিক বিমান পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।