কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় টেঙ্গুর (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত-সংলগ্ন চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন এবং স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। নিহত টেঙ্গুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটলের ছোট ভাই।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা মাদক চোরাচালানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ও বিএনপি নেতা আজাহার এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটল গ্রুপের মধ্যে গত সোমবার রাত থেকে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে পরবর্তী দুইদিন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বাগবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে টেঙ্গুর পেটে সড়কিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

সংঘর্ষে আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সুমন মিয়া (৫০), হাদু মন্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মন্ডল (৬০) ও রাজু মন্ডল (৩০)। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, সীমান্তের চড়ইকুড়ি গ্রামে আজাহার মেম্বার ও পটল পক্ষের মধ্যে গত দুই-তিন দিন ধরে চলা উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে এই সংঘর্ষ ঘটে। তিনি আরও জানান, ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।