রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়ানোর প্রত্যাশায় বাজারে চাহিদামতো বোতলজাত সয়াবিন তেল ছাড়ছে না। ফলে ডিলারদের কাছ থেকেও তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই এক, দুই বা পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কোথাও কোথাও বিক্রেতারা সীমিত মজুদ আড়ালে রেখে নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য সংরক্ষণ করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

তেলের এই কৃত্রিম সংকটের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১৯০-১৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি বছরে এটি তৃতীয়বারের মতো সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। এবার দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার যাচাই-বাছাই ছাড়া তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

তেলের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে একটি ডিম কিনতে ১৫ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দামও দীর্ঘ সময় ধরে চড়া রয়েছে। বাজারে দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শেখেরটেক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেনের মতে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই উচ্চমূল্যে ডিম ও মুরগি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর ডিমের দাম ১৬০ টাকা ডজন হয়ে গেছে।