দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকার ও দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখার প্রশ্নে এবার কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের কোনো নেতাকর্মী বা জনপ্রতিনিধি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের কোনো ধরনের সাংগঠনিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তরের হাইপ্রোফাইল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসার পর তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং তিন দিনের মাথায় সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেন। সূত্রমতে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদের পথে রওনা হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শুধু রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাই নয়, চাঁদা ও দখলবাজিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধী কোন পদে আছেন সেটি না দেখে তার অপরাধের গুরুত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, উচ্চাভিলাষী কিছু নেতাকর্মীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং অপরাধীদের কোনো পরিচয় দেখা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

সূত্রমতে, দলের আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও নেতা এখন তদন্তের আওতায় রয়েছেন। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। দলীয় হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি বহিষ্কারের ঘটনাও রয়েছে।

বিএনপির উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রশাসন ও জনগণকে বিএনপি একটি বার্তা দিতে চায় যে, দলীয় পরিচয় বা প্রভাব এখানে বড় নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় মেজর (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।