বর্তমান সময়ে 'শালীনতা' শব্দটি যেন তার সঠিক প্রয়োগ হারিয়েছে। নৃতাত্ত্বিকভাবে পোশাক মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। দেশ, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পোশাকের মাধ্যমে শালীনতা বজায় রাখা মানবজাতির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পোশাক কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শরীর ঢেকে রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি থেকে আত্মরক্ষার একটি কার্যকর পদ্ধতি। তাই নিজের জন্য শালীন পোশাক নির্বাচন করা যেমন জরুরি, তেমনি অন্যের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করাও সবার নৈতিক দায়িত্ব।

দুঃখজনক হলেও সত্য, মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতেও এখন পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে হাফপ্যান্ট বা সংক্ষিপ্ত পোশাকের প্রচলন বাড়ছে। এটি বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি চরম উদাসীনতা ও ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। সুস্থ ও সভ্য সমাজের দাবি হলো, পোশাক নির্বাচনে এমন দেউলিয়াত্ব পরিহার করা।

ইসলামের দৃষ্টিতে শালীন পোশাক পরিধান করা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা অশ্লীলতা প্রসারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এছাড়া হাদিসেও লজ্জাবোধকে ঈমানের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মুসনাদে আহমদের ১০৫১২ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, লজ্জা ঈমানের অংশ এবং ঈমানদাররাই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। মিশকাত শরীফের ৫০৭৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, নির্লজ্জতা দুশ্চরিত্রের পরিচায়ক, যার পরিণতি জাহান্নাম।

ইসলামি নির্দেশনায় পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালা, যা সতর ঢেকে রাখে। পুরুষের সতরের সীমা নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। পোশাক আঁটসাঁট হওয়া, বিধর্মীদের সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া, অহংকার প্রকাশ করা বা টাখনুর নিচে ঝুলে থাকা ইসলামি বিধানের পরিপন্থী। রাসুল (সা.) মামার নামক এক সাহাবিকে তার ঊরু ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কারণ এটি সতরের অন্তর্ভুক্ত (আহমদ: ২২৪৯৫)। এছাড়া আবু দাউদ শরিফের ৩১৪০ নম্বর হাদিসে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবীজি (সা.) জীবিত বা মৃত কারো ঊরুর দিকে দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন। তাই ঘরে-বাইরে সর্বত্র লজ্জা ও শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।