রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানি জাতির সাহস, বীরত্ব ও দৃঢ়তা পুরো বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। মস্কোয় অনুষ্ঠিত ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের ২৩তম বার্ষিক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। পুতিন উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব বর্তমানে গভীরভাবে ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখে অনেকেই হতবাক।
পুতিন ইরানের প্রশাসনিক কাঠামো এবং সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, দেশটিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সহ দক্ষ নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী পরিসর রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এসব নেতার অনেকেই দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগে সর্বদা প্রস্তুত।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি হত্যাকাণ্ডকে পুতিন একটি 'বিরাট ভুল' হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, লারিজানি ছিলেন একজন সমঝোতাপ্রবণ ব্যক্তি, যিনি ইরানের জনগণের স্বার্থে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে আগ্রহী ছিলেন।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত রাশিয়ার প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, একপর্যায়ে ইরান রাশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের ভূখণ্ডে রাশিয়া-ইরানের যৌথ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব এখনো মস্কোর পক্ষ থেকে বহাল রয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে সংকটের সমাধানে রাশিয়া মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া ও ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।