আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) চার সদস্যের একটি নতুন নভোচারী দল সফলভাবে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার মহাকাশ স্টেশনে তাদের মহাকাশযান ডকিং সম্পন্ন হয়। নতুন এই সদস্যরা সেখানে প্রায় ছয় মাস অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ক্রু-১৩ মিশনের এই নভোচারীদের উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর স্পেসএক্সের ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুলটি আইএসএসের ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়। নাসার কর্মকর্তাদের মতে, কোনো মার্কিন মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর এটি দ্রুততম সময়ের রেকর্ড।

নাসা টিভির সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল (২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার) গতিতে ছুটতে থাকা ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে মহাকাশ স্টেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ‘ড্রাগনের হার্ড ক্যাপচার সম্পন্ন হয়েছে।’ এরপর ক্যাপসুলের দরজা খুলে নভোচারীরা চাপ-নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন।

এই মিশনের নতুন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ। এর আগে ড্রাগন ক্যাপসুলে লিক ধরা পড়ায় এই মিশনের যাত্রা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই দল বর্তমান ক্রু-১২ দলের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ক্রু-১২ দলের সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্রু-১২ সদস্যরা আগামী সোমবারের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন।

গত ২৫ বছর ধরে নিয়মিত মানুষের পদচারণায় থাকা এই মহাকাশ স্টেশনটিকে ২০৩০ সালের দিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে মহাসাগরে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ সহযোগিতা সংকুচিত হলেও, আইএসএস নিয়ে রাশিয়া ও অন্যান্য অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।