পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন ও হামলার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস এবং তাদের যুবসংগঠন জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশের উদ্যোগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বংশালের নর্থ সাউথ রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক বলেন, মক্কা ও মদিনা হলো সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই এর ওপর যেকোনো হামলা মানেই পুরো মুসলিম উম্মাহর ওপর আঘাত। তিনি ইয়েমেনের হুথিদের এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে মক্কা-মদিনার পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি সরকারের নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি সংগঠনের পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুল ইসলাম বলেন, ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যার লক্ষ্যবস্তু এখন মক্কা ও মদিনাও। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ সর্বদা সৌদি আরবের পাশে থাকবে।

কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন, শায়খ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল শায়খ ড. মুজাফফর বিন মহসিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আকমল হোসেন, কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিভাগের সহযোগী সেক্রেটারি শায়খ ইসহাক এরশাদ মাদানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি শায়খ শামসুল হক শিবলী এবং উপদেষ্টা শায়খ হোসাইন বিন সোহরাব মাদানী ও শায়খ আবু হানিফ মাদানী। এছাড়া জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি শায়খ আব্দুল্লাহিল হাদী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শুব্বান বিষয়ক সেক্রেটারি হাফেজ ওয়াসিম উদ্দীন সজীব এবং মহানগর শুব্বান সভাপতি শায়খ আল-আমীন মাদানীসহ অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও জমঈয়তে আহলে হাদীস ও শুব্বানের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদের জুমার খুতবায় মক্কা-মদিনার মর্যাদা, নিরাপত্তা রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।