সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকায় হজরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলামের শেখপাড়া গ্রামের একটি মসজিদে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষে রাসেল নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলটি মোগলাবাজার থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। মোগলাবাজার থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হজরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে সিলামের শেখপাড়া গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ২২ আগস্ট একই বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। এস্টেট পরিচালনার জন্য গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয়, যেখানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি করা হয়। এছাড়া ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শাহ আব্দুল মান্নান কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করলে গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট নতুন কমিটি বহাল রাখেন। তবে আদালতের নির্দেশনায় সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, আদালতের ওই নির্দেশনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।