প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৯টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২২৩ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাব বিবেচনায় নিলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের আগাম সরবরাহের চুক্তির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৫৪ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে।
স্বর্ণের এই দাম বাড়ার পেছনে মার্কিন ডলারের দরপতনকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে কৃষি খাতের বাইরে নতুন কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার, যা আগস্টের সংশোধিত ১ লাখ ৩৩ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ধীরগতি ডলারের মান কিছুটা দুর্বল করেছে, যা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার্স বলেন, সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা কিছুটা কমে যাওয়ায় ডলার দুর্বল হয়েছে, যা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এছাড়া বাজারে আগে অতিরিক্ত দরপতন হওয়ায় এখন দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারের কারিগরি চিত্র এখনো খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় এবং সুদের হার বাড়ানোর প্রবণতা পুনরায় শুরু হলে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।
চলতি মাসের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের একাংশের বিরোধিতার কারণে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কা স্বর্ণের দামে দীর্ঘ সময় ধরে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ট্রেজারি বন্ডের সুদহার যদি সত্যিই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে থাকে, তবে স্বল্প মেয়াদে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর দামও শুক্রবার বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে ৬২ ডলার ৭ সেন্ট, প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৪০ ডলার ৫৩ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৯৭ ডলার ৪৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে এই তিনটি মূল্যবান ধাতুর দামও কমার পথে রয়েছে।