রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কথিত সমঝোতা নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে দলটি। জামায়াত নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা জোট করার সুযোগ নেই। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশ ও জাতি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে। তিনি আরও বলেন, যারা জনগণকে হত্যা করেছে এবং গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসী যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করবে। আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রস্তুতি রেখেছি। জামায়াতের রাজনীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আমাদের নীতি অনুযায়ী আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।
সম্প্রতি জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বিএনপি’র সঙ্গে দলটির টানাপড়েন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১লা অক্টোবর ফেনীর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও গুপ্তদল এক হওয়ার অভিযোগ তুললে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা শুরু হয়। এর আগে জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকলেও জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পরে জামায়াত এর ব্যাখ্যা প্রদান করে।
জামায়াত বর্তমানে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। জোটের সূত্রমতে, বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন করে লংমার্চ করার পরিকল্পনা চলছে এবং আগামী ১৪ই নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরে ঢাকায় বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতিও নিচ্ছে জোটটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নজরদারি বজায় রাখার কৌশল নিয়ে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতার দাবি, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একটি অংশ তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল, তবে জামায়াত নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এসব গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণ করছে।
এর আগে জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি না থাকায় বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে জামায়াতের পক্ষ
আওয়ামী লীগের সঙ্গে অ্যালায়েন্সের কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণকে যারা হত্যা করেছে, ২৪ এর গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশবাসী যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করবে। আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রস্তুতি রেখেছি। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো ধরনের কোনো আপসের সুযোগ নেই। যারা হত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী— তারা দ