বরুড়ায় চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যা রহস্য উদঘাটন: সিলেট থেকে ঘাতক স্বামী গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

​বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: মোঃ আবিদ হাসান

কুমিল্লার বরুড়ায় ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহের পরিচয় অবশেষে মিলল এবং অন্ধ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করল বরুড়া থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতক স্বামী এরশাদ হোসেনকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
​প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বরুড়া উপজেলার চিতড্ডা ইউনিয়নের উত্তর ওড্ডা এলাকায় জাকির মিয়ার বাড়ির পিছনে সোলেমান সরকারের ধানী জমি থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু না পাওয়ায় পরবর্তীতে এ ঘটনায় বরুড়া থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৬, তারিখ: ১২.০৯.২০২৬) রুজু করা হয়।
​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সাঈদ মিয়ার নিবিড় তদন্ত এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত স্বামী এরশাদ হোসেন (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত এরশাদ বরুড়া উপজেলার ৬নং চিতড্ডা ইউপির ওড্ডা গ্রামের (মিছির আলী মালের বাড়ি) আইয়ুব আলীর ছেলে।
​জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, উদ্ধারকৃত সেই অজ্ঞাতনামা মরদেহটি আসলে ঘাতক এরশাদের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩২)-এর। আসামির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর সে তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে ধানী জমির মাটিতে ফেলে রেখেছিল।
​পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) ধৃত আসামি এরশাদ হোসেন কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়ে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। বরুড়া থানা পুলিশের সময়োপযোগী ও দক্ষ তদন্তে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে।