শরতের আগমনীতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে ফুটেছে সাদা রঙের কাশফুল। বাতাসে দোল খাওয়া ধবধবে সাদা এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে যমুনার পাড়ে ও চরে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য ফুলপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে কাশফুলের নরম ছোঁয়া পেতে এবং সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করতে দর্শনার্থীদের মাঝে এখন সেলফি তোলার হিড়িক পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদী তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এই কাশফুল ফুটেছে। যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরে সাদা রঙের কাশফুল প্রকৃতিতে এক অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে কাশফুলের এই রূপ যেন চোখ জুড়িয়ে দেয়।

দর্শনার্থীরা প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৩ নম্বর চায়না বাঁধ, যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর, কাজিপুরের মেঘাই নৌবন্দর, তেকানি বাঁধ এবং শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্কসহ বিভিন্ন স্থানে পড়ন্ত বিকেলে জড়ো হচ্ছেন। অনেকে আবার যমুনা নদীতে নৌকা ভ্রমণ করে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। প্রেমিক-প্রেমিকারা এই কাশবনকে সাক্ষী রেখে যেমন সময় কাটাচ্ছেন, তেমনি অনেকে সুন্দর মুহূর্তের ছবি ও সেলফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন।

যমুনার বুকে ও চরে সাদা কাশফুলের এই অপরূপ দৃশ্য এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান এবং কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, শরতের এই মনোরম পরিবেশ ও শীতল বাতাস উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সমাগম ঘটছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি বাড়ছে। এ কারণে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যমুনার পাড়সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।