মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে মারধর এবং তুলে আছাড় মারার অভিযোগে নাহিদ শেখ নামের এক অভিভাবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন বুধবার ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এর জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে এমন সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে তার চাচা নাহিদ শেখ বিদ্যালয়ে আসেন। প্রস্তুতিমূলক কুচকাওয়াজ শেষে শিক্ষার্থীরা যখন শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল, তখন নাহিদ সেখানে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ওই শিক্ষার্থীকে ধরে মারধর করেন এবং তিনবার তুলে আছাড় দেন।
এই ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ভয়ে চিৎকার শুরু করলে শিক্ষকরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ অভিযুক্ত নাহিদ শেখকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান এবং সিরাজদিখান থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বার শেখের ছেলে নাহিদকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যে এই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বুধবার দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা না করে এভাবে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীকে মারধর করা লজ্জাজনক। এমন কাজ ওই অভিভাবকের করা ঠিক হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, অভিযুক্ত অভিভাবককে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজদিখানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ জানিয়েছেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।