বঙ্গোপসাগরকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমন এবং এই অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

শনিবার (০৩ অক্টোবর ২০২৬) রাত ০৯:২৮ পিএম-এর দিকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন'-এর একটি অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান।

সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গোপসাগরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই বিশাল উপসাগরটি কেবল আমাদের অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং সমগ্র ভারত মহাসাগরের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত পরিকল্পনায় বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ এই এলাকায় সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম, যা প্রতিবেশী ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই অপরিহার্য।

বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করে উল্লেখ করে মুনীরুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূ-কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি স্থলপথ বা করিডোর তৈরি করতে পারে, তবে এই আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের সুবিধা নিয়ে ভারত ও চীন উভয় দেশই ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও উঠে আসে। বিআইপিএসএস সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। এই সংকট এবং এর ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের এই সক্রিয় ভূমিকা ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই কল্যাণকর হবে।