দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (আইইউবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিটের সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ তথ্য জানান। এই সামিটটি যৌথভাবে আয়োজন করে আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (সিএইচআইপিএস) ও বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড মহামারির অভিজ্ঞতা এবং ২০২৩ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেজোলিউশনের পর মেডিকেল অক্সিজেন এখন কেবল তাৎক্ষণিক চাহিদা নয়, বরং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার একটি অপরিহার্য অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং কোথাও কোথাও সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরেই ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
ল্যানসেট কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘অক্সিজেন অ্যাকসেস স্কোরকার্ড’ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. মুহিত বলেন, বাংলাদেশের মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থাকে এমন মানে উন্নীত করা হবে যাতে বৈশ্বিক স্কোরকার্ডে সাফল্যের প্রমাণ রাখা যায়। এছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য একটি কার্যকর ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়ন এবং চিকিৎসা পাঠ্যক্রমে অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিএমডিসি ও নার্সিং কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি সাশ্রয়ী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই মেডিকেল অক্সিজেন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন।