শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারুয়া-কুশাইকুড়া সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের প্রাত্যহিক কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে শ্রমজীবী মানুষ, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং স্কুলগামী শিশুদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও সম্প্রতি সেটিও ভেঙে পড়েছে। ফলে এই সড়কটিতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে সড়কের একটি বড় অংশসহ কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে যাতায়াত সচল রাখতে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে ভাঙা অংশের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে ভেঙে পড়ায় ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ভারুয়া ও কুশাইকুড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষ নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করেন। সাঁকো পার হতে গিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থী এবং বয়স্ক ব্যক্তি নিচে পড়ে আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কুশাইকুড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় সড়কের মাঝখানে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিলে কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর গ্রামবাসী চাঁদা তুলে যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছিলেন। তিনি আরও জানান, পূর্বে এই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনটি কালভার্ট, একটি ব্রিজ ও একটি ইউড্রেন ছিল। এই অবকাঠামোগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরেক বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, চলতি বছরের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের স্রোতে সড়কের আরও কিছু অংশ, কালভার্ট ও ইউড্রেন নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহিদুল হক মনির বলেন, নলকুড়া ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির কালভার্ট ও ইউড্রেনসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। জনস্বার্থে সেখানে দ্রুত একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান বলেন, ভাঙনকবলিত সড়ক ও ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টটি দ্রুত সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ভারুয়া-কুশাইকুড়া সড়কের ভাঙা কালভার্টের বিষয়টি ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।