রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী। এছাড়া এই ঘটনায় আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে খুঁজতে সেখানে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে ছিল চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাট। সাংবাদিকেরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রদলের অন্তত ১০ নেতা-কর্মীর হামলায় অংশ নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাদের সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস এবং শিক্ষার্থীকে মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল। একইভাবে হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, ফোনালাপ ফাঁস, শিক্ষার্থীকে আটকে টাকা আদায় এবং গত এপ্রিল মাসে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫ আগস্ট পুলিশ তাকে সাতটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করেছিল, যে মামলায় তিনি কারাগারেও ছিলেন।
হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, আলামত আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, তবে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, সংস্কারকাজের জন্য সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী বর্তমানে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ জানান, তারা ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল আলীম জানিয়েছেন, তদন্তে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বিশাল চক্রবর্তী, যিনি হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত হয়েছেন, তিনি পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে।