ফ্রান্সে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের নেওয়া শিক্ষাখাতে বাজেট কমিয়ে আনা, শ্রেণিকক্ষ সংকট এবং শিক্ষক স্বল্পতার পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ শিক্ষার্থীরা শত শত স্কুল ব্লকেড বা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

দেশটির হাইস্কুল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ১৮০০-এর অধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু স্কুল অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সকালে মার্সেই, নাঁতেস এবং লিওঁ শহরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে রাজধানী প্যারিসে দুপুরের পর সবচেয়ে বড় জমায়েত দেখা যাবে।

আন্দোলনের শুরুর দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটিয়েছিল, যা পরে আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। সরকার দাবি করেছে, এই ছাত্র আন্দোলন বর্তমানে শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

বিক্ষোভের মধ্যে গতকাল সোমবার উত্তর ফ্রান্সে এক শিক্ষার্থীর হাত বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে শক্ত বস্তু ছুড়ছিল। আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম লা ভয়েক্স নর্ড জানিয়েছে, ১৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী পুলিশের একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নিলে তা বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে তার হাত ও শরীরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ওই শিক্ষার্থীর হাত কীভাবে উড়ে গেছে তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।