জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পতিত ও দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকা জমিগুলো এখন নতুন আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। এসব জমিতে পানিফল চাষ করে স্থানীয় কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। যেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল ফলানো সম্ভব ছিল না, সেখানে পানিফলের সফল আবাদ কৃষিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
কৃষকদের মতে, চারা রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যায় খরচ অত্যন্ত কম হওয়ায় এই চাষে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্থানীয়ভাবে 'শিঙাড়া' নামে পরিচিত এই ফলটির চাহিদা বাজারে ভালো থাকায় কৃষকরা তাদের সংসারের খরচ মেটাতে এটি একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কৃষক জামাল উদ্দিন জানান, আগে যেসব জমি অব্যবহৃত পড়ে থাকতো, এখন সেখান থেকে বাড়তি আয় হচ্ছে। এমনকি বাজারের দাম ভালো থাকলে এই চাষের ওপর নির্ভর করেই সংসার চালানো সম্ভব।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকদের হাতে নগদ অর্থের সংকট থাকে, সেই সময়ে পানিফল বিক্রি করে পাওয়া টাকা তাদের বেশ কাজে আসে। পানিতে ভাসমান গাছে জন্ম নেওয়া এই ফলটি সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সাধারণ মানুষ সিদ্ধ করে নাস্তা হিসেবে এটি খেতে পছন্দ করেন। এছাড়া রোদে শুকিয়ে মেশিনে বা ঢেঁকিতে গুঁড়ো করে আটা তৈরি করা হয়, যা দিয়ে রুটিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা সম্ভব।
পানিফল সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের পাশাপাশি শ্রমিকরাও ফল বাছাই ও পরিবহণের কাজে যুক্ত থাকছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কৃষিবিদরা বলছেন, পানিফল শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে আটার পাশাপাশি গ্লুকোজ তৈরির মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেওয়ানগঞ্জে এই চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং অনাবাদি জমিগুলো পুরোপুরি চাষাবাদের আওতায় আসবে।