আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। নিজেদের এই বিদায়ী ম্যাচেও চিরচেনা ছন্দে উজ্জ্বল ছিলেন মেসি। তার এক গোল এবং দুটি অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও পুরো দলের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন এই ক্লান্ত কাণ্ডারি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও মাঠের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা ছিলেন লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে অন্তত ছয়বার বল স্পর্শ করেন তিনি। এ সময় প্রথমার্ধের সবচেয়ে ভালো দুটি সুযোগের একটি নিজে পেয়েছিলেন এবং অন্যটি সতীর্থদের জন্য তৈরি করেছিলেন। তবে গোলমুখে ফিনিশিংয়ের অভাবে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

অবশেষে ম্যাচের ৪৭ মিনিটে ভাঙল ডেডলক। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক সুযোগ তৈরি হয়। সেখান থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন আরেক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি। অনেকটা পেছন থেকে এসে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে হানা দিয়ে লাফিয়ে উঠে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান এই সেন্টারব্যাক। মেসির সাথে ওতামেন্দিও এই ম্যাচের মাধ্যমে আকাশী-সাদা জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

ম্যাচের ব্যবধান দ্বিগুণ করতে বেশি সময় নেয়নি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা নিকো পাজকে বক্সের বাইরে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। সেখান থেকে চমৎকার এক বাঁকানো শটে গোল করেন পাজ। এর মাধ্যমে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটি পান মেসি।

এরপর ম্যাচের ৭০ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে ফাউলের শিকার হন অগাস্তিন জিয়াই, যার ফলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে জোরালো শটে গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন মেসি নিজেই। বিদায়ী ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট ও এক গোল করে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে রাঙিয়ে নিলেন এই মহানায়ক।

ম্যাচ শেষে ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট সোফাস্কোর মেসির এই পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ১০-এর মধ্যে ৮.৫ রেটিং দিয়েছে। ক্যারিয়ারজুড়ে বহু ঝড়-ঝাপটায় যেভাবে আর্জেন্টিনাকে আগলে রেখেছিলেন, বিদায়ের রাতেও যেন দক্ষ কাণ্ডারির মতোই শেষবারের মতো কায়দা দেখালেন লিওনেল মেসি।

সোনালী সময়ে তিনি মায়াবি সব ড্রিবলে ছিটকে বেরিয়ে যেতেন বহু ডিফেন্ডারের জটলা থেকে। সে ঝলকটা আজ দেখাতে পারেননি। ক্লান্ত পায়ে তা আর কাহাতক সম্ভব! কিন্তু পুরো ক্যারিয়ার যেভাবে কেটেছে, মাঝদরিয়ায় পথ হারানো আর্জেন্টিনাকে তরিয়েছেন গোল করে, বা করিয়ে; সে কাজটা আজ করতে ভোলেননি। বেনিনের জালে আর্জেন্টিনা জড়াল ৩ গোল, তিনটিতেই আছে মেস

গোল না পেলেও প্রথমার্ধে দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকাটি ছিলেন। প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ৬ বার বল ছুঁয়েছিলেন, এরপর সবচেয়ে ভালো দুই সুযোগের একটা পেয়েছিলেন তিনি, অন্যটা তৈরিও করেছিলেন। তবে শুরুর অর্ধে গোল হলো না।