বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়ার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থমকে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন, আর খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংক খাতে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য। বিশ্বব্যাংকের ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমায় বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে এই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। জাতীয় দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ীও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং টানা চতুর্থ বছরের মতো দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। ২০২২ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার যেখানে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, সেখানে গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে দেশে আয়বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন খাতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও এর বড় অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, বরং সচ্ছল পরিবারেরাই এসব সুবিধার উল্লেখযোগ্য অংশ পাচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা অনেক মানুষ সামাজিক সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা পরবর্তী দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন। প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বিনিয়োগের সংকোচন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। বড় অবকাঠামো প্রকল্প পর্যালোচনা, নতুন প্রকল্প অনুমোদনে সতর্কতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার দুর্বলতার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে নেমে এসেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, যা করোনা মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রথম সংকোচন। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা সক্ষমতার নিচে উৎপাদন করেছে, কেউ কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কিংবা কর্মী ছাঁটাই করেছে। বাংলাদেশ ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্যাসে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকলেও বর্তমানে মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে। কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র ও মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে কোনো একটি স্থাপনায় সমস্যা হলে বড় এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অর্থনীতির এই ধীরগতির প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে চাকরি হারানো নারীদের অনেকে শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে গেছেন। তথ্য অনুযায়ী, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২০২২ সালের ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে।
গড় মূল্যস্ফীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে এবং গত আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাংকের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা এবং মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি এখনো উঁচু পর্যায়ে রয়েছে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে কম আয়ের শ্রমিকদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় আগস্টে তাদের প্রকৃত মজুরি আবার ঋণাত্মক হয়ে গেছে। সরকারের ব্যাংকঋণ, ভর্তুকি ও সুদসহ চলতি ব্যয়, প্রবাসী আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার কারণে অর্থ সরবরাহ বাড়লেও বেসরকারি ঋণ ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়েনি। ফলে অর্থ সরবরাহের প্রবৃদ্ধি উৎপাদনের চেয়ে পণ্যের দামের ওপর বেশি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম হার ১০ শতাংশ। প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়ম শিথিল করার কারণে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়নি, যার ফলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত দুর্বলতা পুরোপুরি প্রকাশ পাচ্ছে না। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের জামানতবিহীন তারল্য সহায়তা ২০২৬ সালের জুনে ৭৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন ও আমানত সুরক্ষা আইন পাস করাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বারবার ছাড় ও তারল্য সহায়তা দেওয়ায় প্রকৃত লোকসান শনাক্ত ও সমাধানের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুলাই নীতি সুদহার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে, যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথম নীতি সুদহার কমানোর ঘটনা। তবে ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রবৃদ্ধি জুনে মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ। গত ২৯ জুন ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা অর্থায়ন ছাড়া অন্যান্য ঋণে আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বড় প্রতিষ্ঠান বা সরকারকে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী হতে পারে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, বিপরীতে আমদানি ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৭১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজারেও বাংলাদেশের ওপর চাপ বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ১ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে দেশটির পোশাক আমদানি বেড়েছে। নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কমে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা বাড়লেও নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারের মোট অর্থায়নের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে ব্যাংক খাত থেকে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। সরকার বেশি ব্যাংকঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সরকারি ঋণও জিডিপির ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে এবং সুদ পরিশোধের ব্যয় পৌঁছেছে জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ কর আদায় করেছে। মোট রাজস্ব জিডিপির ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে, যার মধ্যে কর-রাজস্ব প্রায় ৭ শতাংশ। সীমিত করভিত্তি, কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও অতিরিক্ত করছাড় রাজস্ব বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে আছে।
সরকারের মোট ব্যয় জিডিপির ১১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। চলতি ব্যয় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও মূলধনি ব্যয় ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নতুন সরকারি বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে মূল বেতন ও ভাতা গড়ে প্রায় ১২০ শতাংশ এবং পেনশন প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়তে পারে, যার ফলে ২০ Font২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে থাকতে পারে, যা গত ১০ বছরের গড় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, তবে তা দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট হবে না। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেড়ে ২২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে এবং পরের অর্থবছরে সামান্য কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি যথাক্রমে ৮ দশমিক ৬ ও ৭ দশমিক ১ শতাংশ থাকতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে তিনটি ক্ষেত্রে দ্রুত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, ব্যাংক খাতে সম্পদের মান পর্যালোচনা দ্রুত শেষ করে কোনো ব্যাংক টিকে থাকতে পারবে তা নির্ধারণ করা এবং নিয়ন্ত্রক ছাড় ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি খাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি অবকাঠামো বাড়ানো এবং বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো। তৃতীয়ত, রাজস্ব বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে আলাদা করা, সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য সমন্বয় করে কর ফাঁকি শনাক্ত করা এবং অকার্যকর করছাড় পর্যায়ক্রমে কমানো। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন হলো, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমেই অর্থনীতিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।