সুন্দরবন ঘেঁষা খুলনার কয়রা উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটাতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রস্তাবিত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার, গ্রামীণ জনপদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও মৎস্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা এবং পর্যটন খাতে এর প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কয়রা উপজেলার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। পীর খানজাহান আলীর (রহ.) সময়কার গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, খালাস খার দিঘি, রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ‘বড়বাড়ি’সহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে এখানে। সুন্দরবনের একটি বড় অংশও এ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকলেও অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এসব এলাকার অনেকটাই এখনো পর্যটকদের কাছে অপ্রতুল। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য বরাদ্দ হিসাব করে প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও কিছু সড়ক যুক্ত হওয়ায় মোট উন্নয়নকাজের পরিমাণ প্রায় ৬০ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত সড়কগুলোর মধ্যে উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালী বাজার হয়ে গিলাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এ ছাড়া খালাস খার দিঘির পাড় হয়ে সুন্দরবন-সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর পশ্চিম পাড়ের বাঁধ দিয়ে গোলখালী পর্যন্ত সড়ক, গিলাবাড়ি বাজার থেকে কয়রা বাজার অভিমুখী সড়ক, গোলনা বাজার থেকে দুবরা-কাটি মোড় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, কয়রা সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হলেও দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার কারণে বাইরের পর্যটকেরা এখানে আসতে আগ্রহী হন না। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের জীবনমানের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনেরও প্রসার ঘটবে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম শহরউদ্দিন বলেন, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকার অনেক মানুষ দেশের বিভিন্ন শহরে গিয়ে বসবাস করছেন। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকায় চিংড়ি, সুন্দরবনের মাছ ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হয়। সড়ক উন্নত হলে ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এলজিইডির উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, উপজেলার কয়েকটি সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই চলছে। ডিপিপি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের একটিকে আরেকটির সঙ্গে যুক্ত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এলাকার ব্যবসা ও পর্যটনে গতি ফিরবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।