ফরিদপুরের নগরকান্দার দামদরদি গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মাতুব্বর ওরফে হৃদয় মাতুব্বর (৪৪) গত ১২ বছর ধরে একের পর এক গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। ২০১৪ সালে নিজের স্ত্রী রাহেলা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগের মধ্য দিয়ে তাঁর অপরাধজীবনের শুরু হয়। ওই ঘটনায় নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুসের ভাষ্যমতে, মনিরুজ্জামান বখাটে প্রকৃতির ছিলেন এবং বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই ঘুমন্ত স্ত্রীকে হত্যা করেন। স্ত্রী হত্যা মামলায় চার বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
কারামুক্ত হওয়ার পর মনিরুজ্জামান ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় গা ঢাকা দেন। সেখানে তিনি নতুন করে গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর মনিরুজ্জামান ও তাঁর দুই সহযোগী এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার আট মাসের মাথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার একটি ফ্ল্যাটে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম (৩৯) ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবিরকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় তদন্তে মনিরুজ্জামানের নাম উঠে আসে। পিবিআই ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফিন জানান, আলমগীরের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের পরিচয় ছিল এবং সবজির ব্যবসার সুবাদে তাঁরা কাছাকাছি থাকতেন। নাজমার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২ সেপ্টেম্বর আলমগীর দম্পতি তাঁদের বাসায় মনিরুজ্জামানকে দাওয়াত দেন। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে নাজমা মেঝেতে পড়ে গিয়ে পেটে আঘাত পান এবং তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়। এরপর মনিরুজ্জামান আলমগীরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
পিবিআই ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। মনিরুজ্জামানের বড় বোন তাসলিমা বেগম জানান, পরিবারের সদস্যরা তাঁর উগ্র ও অবাধ্য আচরণের কারণে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তাঁর এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বাবা জব্বার মাতুব্বর চরম মানসিক কষ্টে ছিলেন এবং প্রায় ৪০ দিন আগে মারা গেছেন।