চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণা, বরিশাল সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: মোঃ সুমন হাওলাদার
বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (BNMC) নিবন্ধিত কর্মকর্তা
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের (বরিশাল সদর হাসপাতাল) পুরুষ ভেষজ (মেডিসিন) বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া আক্তারের ও বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুয়া এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া থানার দক্ষিণ আনইলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো: রিফাত হোসেন এই প্রতারণা ও জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সোনিয়া আক্তার (পিতা: মো: আবুল হোসেন মৃধা, মাতা: নার্গীস বেগম, স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-কচুয়া, মহাল্লা-শৌলজালিয়া, ডাকঘর-কচুয়া-৮৪৩০, থানা-কাঁঠালিয়া, জেলা-ঝালকাঠি) নিজেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (DGNM) ১০ম গ্রেডের একজন স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন। তিনি তাঁর প্রভাব খাটিয়ে মো: রিফাত হোসেনকে একটি সরকারি হাসপাতালে ‘অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট’ (Office Assistant) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান এবং হাসপাতালে একটি ভুয়া আবেদনপত্র (Application) পূরণ করান। সোনিয়া আক্তারের এই প্রলোভনে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী মো: রিফাত হোসেনের পক্ষে তাঁর ওমান থেকে সোনিয়া আক্তারের সোনালী ব্যাংক পিএলসি-র নাজিমউদ্দিন রোড শাখা, ঢাকা-এর প্রধান অনলাইন কোর ব্যাংকিং হিসাব নম্বরে (৫৫৩৪৩০১০০৫৪৭৭, শাখা কোড- ৪৯৩, রাউটিং নং- ২০০২৭৪৯৩১) মোটা অঙ্কের অর্থ জমা প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে সোনিয়া আক্তারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশে সরাসরি নগদ টাকা জমা দেওয়ার যে সুনির্দিষ্ট বিবরণী পাওয়া গেছে তা নিম্নরূপ: রিফাত হোসেনের চাচা ওমান প্রবাসী মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন কর্তৃক বৈদেশিক রেমিট্যান্স: ওমানের আল জাদিদ এক্সচেঞ্জ (Al Jadeed Exchange, Oman) ও এজ রেমিত (EZREMIT)-এর মাধ্যমে সোনিয়া আক্তারের নাজিমউদ্দিন রোড শাখার অ্যাকাউন্টে দুই দফায় টাকা পাঠান।২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: রেমিট্যান্স ভাউচার অনুযায়ী সোনিয়া আক্তারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা হয় ৯৭,৫৭০.০০ টাকা প্রেরক: মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন। এবং ১৪ মার্চ ২০২৫: রেমিট্যান্স ভাউচার অনুযায়ী একই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় ২৯,২৭৫.০০ টাকা প্রেরক: মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন।
ভুক্তভোগী মো: রিফাত হোসেন নিজে সোনালী ব্যাংক পিএলসি-র নাজিমউদ্দিন রোড শাখা, ঢাকা-এর সোনিয়া আক্তারের হিসাব নম্বরে সরাসরি নগদ টাকা জমা করেন, যার প্রতিটিতে ব্যাংক সিল ও ক্যাশিয়ারের স্বাক্ষর রয়েছে। ০৫ মার্চ ২০২৪ ব্যাংক কাউন্টার জমার রসিদ অনুযায়ী সোনিয়া আক্তারের হিসাবে নগদ জমা করা হয় ৫০,০০০.০০ টাকা, ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ব্যাংক কাউন্টার জমার রসিদ অনুযায়ী একই হিসাবে নগদ জমা করা হয় ৫০,০০০.০০ টাকা, ১১ এপ্রিল সেপ্টেম্বর ২০২৪ ব্যাংক কাউন্টার জমার রসিদ অনুযায়ী সোনিয়া আক্তারের অ্যাকাউন্টে পুনরায় নগদ জমা করা হয় ২০,০০০.০০ টাকা, ০৯ জানুয়ারী ২০২৫ ব্যাংক কাউন্টার জমার রসিদ অনুযায়ী সোনিয়া আক্তারের হিসাবে নগদ জমা করা হয় ১,১০,০০০.০০ টাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ব্যাংক কাউন্টার জমার রসিদ অনুযায়ী সোনিয়া আক্তারের হিসাবে নগদ জমা করা হয় ৮০,০০০.০০ টাকা।
ব্যাংক লেনদেনের অফিশিয়াল নথি ও জমার স্লিপ পর্যালোচনার পর দেখা যায়, ওমান থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশের সরাসরি নগদ ১,২৮,০০০ জমাসহ সর্বমোট ৫,৪৫,০০০ (পাঁচ লাখ পাঁচ চল্লিশ হাজার ) টাকা সোনিয়া আক্তারের নগদ ও তার অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়েছে, যার প্রতিটি প্রমাণ ভুক্তভোগীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মোবাইলে পাঠানো ভুয়া এসএমএস (SMS)-এর বিবরণ: বিপূল পরিমাণ এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর নিজের জালিয়াতি ঢাকতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সোনিয়া আক্তার একটি চক্রের মাধ্যমে মো: রিফাত হোসেনের মোবাইলে (+৮৮০ ১৫ ৭৭০০ ৮৪৩৮ নম্বর থেকে) একটি ভুয়া সিলেকশন মেসেজ পাঠান। মেসেজটিতে হুবহু লেখা ছিল:
“!congratulation! MD.RIFAT HOSSIAN YOU SELECTED POST ON OFFICE ASSISTANT REQUIREMENT IN SHNIBPS.YOUR All DOCUMENT SENT IN MINISTRY.WE SENT A APPOINTMENT LETTER YOUR PERMANENT ADDRESS ANY DAYS” (যার বাংলা অর্থ: “অভিনন্দন! মো: রিফাত হোসেন, আপনি SHNIBPS-এ অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের যোগ্যতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আপনার সমস্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যেকোনো দিন আপনার স্থায়ী ঠিকানায় আমরা একটি নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দেব।”)
ভুক্তভোগী রিফাত হোসেন জানান, মেসেজটি পাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সোনিয়া আক্তারকে বিষয়টি জানান। কিন্তু সোনিয়া আক্তার জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সব কিছু ওকে ঠিক আছে, যেকোনো সময় তোমারে ওরা জয়েনিং করার জন্য ডাকবে। ” কিন্তু এর পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কোনো নিয়োগপত্র আসেনি এবং হাসপাতাল বা মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে আর কোনোদিনও ডাকা হয়নি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং মেসেজটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও সাজানো ছিল।
ভুক্তভোগী আরো বলেন কষ্টার্জিত এতগুলো টাকা দেওয়ার পরও চাকরি না হওয়ায় এবং প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সোনিয়া আক্তারের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। উল্টো একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং প্রভাবশালী মহলের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ করেছে। তিনি আরো জানান এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল রেজিস্ট্রার BNMC, DGNM, সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখত অভিযোগ করেন।
এবং এ বিষয়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের (বরিশাল সদর হাসপাতাল) পুরুষ ভেষজ (মেডিসিন) বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া আক্তারের সাথে কথা বলতে চাইলে তার মুঠো ফোনে ফোন রিসিভ করে বলেন এ বিষয়ে এখন কিছু বলব না পড়ে বলব।