কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে এই দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এসব পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেখানে সেনা ক্যাম্প স্থাপিত হলে এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান পরিচালনার তথ্য উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি এই যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এতে সমন্বিতভাবে কাজ করে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধ বা কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারিত রয়েছে।

ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর প্রধান সমস্যা হলো মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা। এর পাশাপাশি সাধারণ অপরাধও ঘটছে। এসব নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন কাজ করছে। সম্প্রতি এপিবিএনের আইনগত কাঠামোতে তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাহিনীটিতে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার ফলে ক্যাম্পের অপরাধ তদন্তে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

নিরাপত্তা জোরদারে গৃহিত অন্যান্য পদক্ষেপের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁটাতারের বেড়া বা ফেন্সিং পুনর্নির্মাণ করা হবে। সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল টাওয়ার ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।

সমস্যাটির গভীরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে আমরা প্রচেষ্টায় আছি। তবে সময় ইতোমধ্যে অনেক অতিবাহিত হয়েছে, সমস্যাও অনেক ভারী হয়েছে। আমরা আশা করব, এই সমস্যা থেকে আমরা খুব শিগগিরই মুক্তি পাব।’

এদিকে, রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কোনো কারাগার স্থাপনের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তার জানা নেই।